logo
Blog single photo

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি বিশ্ব খাদ্য সংস্থার

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর যেন অর্থনৈতিক চাপের কারণ না হয়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি।

মঙ্গলবার ( ৮ জুন) ইতালির রোমে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সদর দফতরে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ডব্লিউএফপিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসানের পরিচয়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান রোহিঙ্গা ইস্যুতে ডব্লিউএফপির সহায়তা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে নিশ্চিত, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে ডব্লিউএফপির নির্বাহী বোর্ডের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য নির্বাহী পরিচালককে অনুরোধ করেন।

নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ ভ্রমণের কথা উল্লেখ করেন এবং নিজেদের অর্থনীতি,পরিবেশ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে শুধু মানবিক কারণে নির্যাতিত রোহিঙ্গাজনগোষ্ঠীকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্বশীল নীতি ও অসাধারণ মানবিক মমত্ববোধের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি ২০১৯ সালে ডব্লিউএফপির নির্বাহী বোর্ডের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিন পরিদর্শন এবং পরে তাদের অভিজ্ঞতা বোর্ড সদস্যদের কাছে তুলে ধরার জন্য ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালকের বাংলাদেশের পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের ইতালি সফরে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তাকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ডব্লিউএফপির বোর্ড সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

ডব্লিউএফপি প্রধান বাংলাদেশের সঙ্গে তার আন্তরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গত দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে তার উচ্চ ধারণার জন্য রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি, ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।  এছাড়া ২০২০ সালে ডব্লিউএফপির নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি এবং কোভিডসৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২০ সালে রেকর্ড পরিমাণ আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করায় ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালকের গতিশীল নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ এবং ডব্লিউএফপি আগামী দিনগুলোতে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সেলর ও রোমভিত্তিক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিকল্প স্থায়ী প্রতিনিধি মানস মিত্র এবং ডব্লিউএফপির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
Top