logo
Blog single photo

এবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার উদ্যোগ

দেড় বছর পর রোববার খুলেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পালা। এরই মধ্যে সংস্কার করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন। করোনাকালে ছাত্র-শিক্ষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও ভবন সংস্কার বাবদ চলতি অর্থবছরে আলাদাভাবে ১৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সোমবার খুলেছে মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজ। এখন চলছে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তোড়জোড়। শিক্ষা সচিব জানিয়েছেন, সংস্কার ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তার খোঁজ-খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী।

 
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ বন্ধে শিক্ষার্থীর সমাগম হয়নি অনেকদিন। ক্যাম্পাস খোলার আগেই যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয় এখন সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত অর্থবছরে সংস্কারমূলক কাজের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১৮৮ কোটি টাকা। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের হল আছে তাদের জন্য অতিরিক্ত আরো ৫০ কোটি টাকা দেয়া হয়।

এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ সামাদ জানান, "আমাদের সবগুলো হল এখন প্রস্তুত। হলের বাথরুম, স্যানিটাইজার, ক্যানটিন, ভাঙা দরজা জানালাগুলো সব পুনরায় সংস্কার করে ছাত্র-ছাত্রীদের বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে এরই মধ্যে"।

বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলছে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় ঠিক করতে আগামীকাল বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলতি সপ্তাহেই শেষ হবে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হল খোলার কথা থাকলেও এখন এ মাসের শেষ নাগাদ তা হতে পারে।

আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় কক্ষের ভেতরে সংস্কার কাজ করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই যাতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে থাকতে পারে, সেজন্য চলতি অর্থবছরও ১৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই নিবিড়ভাবে এই কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন। টাকা বরাদ্দের পর এই টাকা কোথায় কোথায় ব্যয় হবে সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি"।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্বই শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী এবং আবাসিক শিক্ষার্থীকে এরই মধ্যে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন কার্ড দেখে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, যেসব শিক্ষার্থী এখনো টিকা নিতে পারেননি, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বা এক ডোজ টিকা নেওয়ার পরও দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারেননি, তাদের তথ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে দ্রুত দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। টিকা দেওয়া সাপেক্ষে হয়তো অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যাবে।

বর্তমানে দেশে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থী সাড়ে ছয় লাখ। তাঁদের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাড়ে তিন লাখের মতো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

এর বাইরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিভুক্ত ২ হাজার ২৬০টি কলেজে মোট শিক্ষার্থী ২৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৩ জন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর বড় সাতটি কলেজে মোট শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এসব কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি সশরীর বা অনলাইনে পরীক্ষা নিচ্ছে।

Top